24.8 C
Mathbaria
সোমবার, মার্চ ২৭, ২০২৩

বেটা ভার্সন

নাজিরপুরে ছাগল চুরি করে হাসপাতালের ডাক্তার-কর্মচারীদের ভুড়িভোজ

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

আরও পড়ুন

অপরাধ

মঠবাড়িয়া উপজেলা

পিরোজপুরের নাজিরপুরে গরীব এক ব্যক্তির ছাগল চুরির পর জবাই করে ভুড়িভোজের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ছাগলের মালিক লায়েক ফরাজি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরসহ থানায় মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটা এ ঘটনা নিয়ে উপজেলাসহ পুরো জেলাব্যাপী বইছে সমালোচনার ঝড়।

ভুক্তভোগী লায়েক ফরাজি উপজেলা সদরের আওয়ামী লীগ অফিস সংলগ্ন একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য পালেন কয়েকটি ছাগল।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে লায়েক ফরাজির একটি ছাগল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে চুরি হয়ে যায়। সোমবার স্থানীয় চামড়া ক্রেতা বিশ্বনাথের কাছ থেকে ওই ছাগলের চামড়া উদ্ধার হয়। বিশ্বনাথ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের সুইপার বাশার শেখ তাকে এই চামড়া দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাশার শেখকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান,চামড়াটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ভুড়িভোজের জন্য জবাই করা ছাগলের। স্যারেরা ছাগলটি গত শুক্রবার রাতে খেয়েছেন। আমি যদি এ বিষয়ে আটকে (অভিযুক্ত হলে) যাই তাহলে সব তথ্য ফাঁস করে দেব। আমি তো হুকুমের গোলাম’।

হাসপাতালের রান্নার দায়িত্বে থাকা খাদিজা বেগম জানান, ওই ছাগলটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রান্না ঘরেই রান্না হয়েছে। আর ওই রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিস কক্ষেই ওই ভুড়িভোজের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ওই হাসপাতালে দায়িত্বরত ৪-৫ জন চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মচারী।

ভুড়িভোজে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক চিকিৎসক ওই ভোজের তথ্য স্বীকার করে জানান, তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. ফজলে বারীর দাওয়াতে সেখানে গিয়েছেন। সেখানে খাওয়া মাংসের ছাগলটি চুরি করা না ক্রয় করা তা তাদের জানা নেই।

এক পুরুষ চিকিৎসক জানান, ‘ওই রাতে আমি ও আমার আর এক সহকর্মী হাঁসের মাংস দিয়ে রুটি খাচ্ছিলাম। কিন্তু স্যারে এসে আমাদের ডেকে নিয়ে যান’।

ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যক্ষদর্শী মো. সজল হোসেন হাওলাদার জানান, ‘গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে তিনি তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবজনিত কারণে হাসপাতালের দোতালায় কেবিনের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই হাসপাতালের ঝাড়ুদার আবুল বাশারসহ তিনজন একটি ছাগল দোতলায় নিয়ে হাসপাতালের কেবিনের একটি টয়লেটে আটকে রাখে। আমি তাদের নিষেধ করলেও তারা একটি বটি দিয়ে সেটি জবাই করে বাজারের শপিং ব্যাগে করে নিয়ে যায়’।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আব্দুল লায়েক ফরাজীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। তিনি অভিযোগটি উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছেও করেছেন।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, ছাগলের ব্যাপারে একটি অভিযোগ এসেছে বলে শুনেছি। আমি থানায় ছিলাম না তাই এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) ডাক্তার মো. ফজলে বারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি গত সোমবার (২২ নভেম্বর) আমার শ্বশুরের চিচিৎসার জন্য ঢাকায় আসছি। এখন ব্যস্ত আছি, বাসায় ফিরে আপনাকে ফোন দেব।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক মঠবাড়িয়া প্রেস-কে জানাতে ই-মেইল করুন- mathbariapress24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

উপকূল সহ দক্ষিন বাংলার আরও সংবাদ

সর্বশেষ