দক্ষিনাঞ্চলের বাস পরিবহনে আইন না মেনে বাসের ছাদে ও বক্সের নামে নীচের অংশে বাংকার তৈরী করে মালামাল পরিবহন করায় প্রতিনিয়ত বাসগুলো দূর্ঘটনার কবলে পরছে।
যাত্রী পরিবহনের আড়ালে দক্ষিনাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় মালামাল পরিবহন করায় এ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। যাত্রীবাহী বাসের মূল আকৃতি বা কাঠামো পরিবর্তন করে, যা মোটরযান আইনের পরিপন্থী এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তারপরেও এসব যানবাহনকে পরীক্ষা ছাড়াই ফিটনেস প্রদান করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সংস্থাটির বা পুলিশের এ ব্যাপারে নেই কোন নজরধারী।
বিআরটিএ এর আইন অমান্য করেই বাসের ছাদে রেলিং ব্যবহার করে মালামাল পরিবহন করছে। এছাড়া যাত্রীদের হালকা ব্যাগ লাকেজ পরিবহনের জন্য ছোট বক্স করার নিয়ম থাকলেও বাসের নিচের অংশের পুরোটা জুড়ে বাংকার তৈরী করে ভারী মালামাল, এমনকি কাঁচামালও পরিবহন করা হচ্ছে।
মোটরযান আইন অনুসারে, মূল কাঠামো বা আকৃতি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন অবৈধ। পরিবর্তিত কাঠামো নিয়ে কোনো যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু বিআরটিএ দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ দিয়ে আসছে। এখন সড়ক দুর্ঘটনায় দক্ষিনাঞ্চলে প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় এসব বিষয় আলোচনায় আসছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন নজরদারি নেই বললেই চলে। বাসগুলোকে মূল কাঠামোয় ফিরিয়ে আনা বা মালামাল পরিবহনকারী বাসগুলোকে আটকিয়ে জরিমানা করার কোন নজির নেই।
এ ব্যাপারে সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাসের অবৈধ অংশ নিজ খরচে অপসারণ করার জন্য মালিকদের সময় বেঁধে দেয় বিআরটিএ কিন্তু কয়েক মাস হলেও কোন পরিবর্তন আসেনি। বাসের নীচের অংশে ও ছাদে দক্ষিনাঞ্চল থেকে কাঁচামাল পরিবহন করায় একদিকে যাত্রীরা তাদের সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপর দিকে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন পরিবহনে যাতায়াত করছে। রাস্তায় দাড়িয়ে মালামাল উঠানো নামানো নিয়ে যাত্রীদের সাথে সুপারভাইজার ও ড্রাইভারের সাথে ঝগড়া লেগে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে।
বাসে মালামাল পরিবহনের সুযোগে সকল প্রকার মাদক পন্য ও অবৈধ সকল মালামাল পরিবহনের এক সহজ মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে। রাস্তায় কোন প্রকার তল্লাশি বা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত না হওয়ার সুবাদে মাদক ব্যবসায়ীরা দক্ষিনাঞ্চলে মাদক পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসাবে বাস পরিবহনকেই বেছে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, অবৈধভাবে কাঠামোগত (আকৃতি) পরিবর্তনও করা হয়েছে। এ জন্য এসব যানবাহন নিজে বেশি দুর্ঘটনা ঘটায় এবং দুর্ঘটনার শিকারও হয় বেশি। কাঠামো পরিবর্তনের কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি বেশি। এ ক্ষেত্রে আহত হলেও তা গুরুতরভাবে হয়।
এ ব্যাপারে শিঘ্রই প্রশাসন ও বিআরটিএ কে ব্যবস্থ্যা নিতে দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীরা দাবী জানিয়েছেন।