28.3 C
Mathbaria
সোমবার, জুন ৫, ২০২৩

বেটা ভার্সন

সৎ ভাইয়ের সাথে পরকীয়া, ভাণ্ডারিয়ায় স্বামীকে বিষপান করিয়ে হত্যা

ভিকটিম পরিবারের অভিযোগ, পরকীয়ার ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ায় হত্যার উদ্দেশে স্বামীকে জোর করে বিষপান করান স্ত্রী ও তার প্রেমিক।

প্রতীকী ছবি।

আরও পড়ুন

অপরাধ

মঠবাড়িয়া উপজেলা

স্ত্রী নিজ সৎ ভাইয়ের সাথে জড়িয়েছেন পরকীয়ায়। আর এরই জেরে স্বামীকে বিষপান করিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভিকটিম পরিবারের অভিযোগ, পরকীয়ার ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ায় হত্যার উদ্দেশে স্বামীকে জোর করে বিষপান করান স্ত্রী ও তার প্রেমিক।

ঘটনাটি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামের। বিষক্রিয়ায় মৃত বেল্লাল সরদার (২৭) এক সন্তানের জনক। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা জলিল সরদারে ছেলে।

বেল্লালের চাচি রাণী বেগম জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের মো: জামালের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে সোনিয়ার সাথে বেল্লালের বিয়ে হয়। এই সংসারে মো: ঈসা নামের ৯ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের।

বেল্লাল ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। স্ত্রী সোনিয়ার মা প্রথম স্বামী জামালের সাথে বিয়ে বিচ্ছেদ হলে সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেখানে তার তিন ছেলে সন্তান রয়েছে।

ওই তিনজনের মধ্যে মো: রাজু নামের এক সন্তান সৎ বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে তার সাথে পরকীয়ায় জড়ায় বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনা জানাজানি হলে বেল্লাল স্ত্রীর সাথে অভিমান করে ভাণ্ডারিয়ার পৌর শহরের ভাড়াবাসা ছেড়ে নিজের পৈত্রিক বাড়িতে চলেন যান ও সেখানে বসবাস শুরু করেন।

বেল্লালের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীর এ ধরনের পরকীয়ার বিষয়টি স্বামীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ায় পরকীয়া প্রেমিক ও স্ত্রী মিলে তাকে বিষপানের পরিকল্পনা করেন। সে অনুসারে ৫ অক্টোবর দুপুরের দিকে বেল্লালকে জোর করে বিষপান করানোর পরে নিজেরাই ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে জ্বর, পাতলা পায়খানার রোগী বলে ভর্তি করান।

পরিবারের দেয়া অভিযোগে বিষয়টি ডাক্তারের সন্দেহ হলে বেল্লালকে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বেল্লাল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে মারা যান।

এ দিকে স্বামীর মৃত্যুতে পরিবারের অন্যদের মধ্যে শোকের মাতম দেখা গেলেও স্ত্রী সোনিয়ার মধ্যে কোনো অনুভূতি দেখা যায়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

এ ঘটনায় মৃত বেল্লালের বাবা মো: জলিল সরদার পুত্রবধূ সোনিয়া, তার সৎ ভাই রাজুকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন বলে বেল্লালের চাচি রাণী বেগম জানিয়েছেন।

ভান্ডারিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মো. বজলুর রহমান এ ঘটনায় ভান্ডারিয়া থানায় ৩০৬ ধরার আত্মহত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ মামলার আসামী বেল্লালের স্ত্রী সোনিয়া বেগম এবং তার বৈমাতভাই (মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর ছেলে) রাজুকে গ্রেফতার করে শুক্রবার সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক মঠবাড়িয়া প্রেস-কে জানাতে ই-মেইল করুন- mathbariapress24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

উপকূল সহ দক্ষিন বাংলার আরও সংবাদ

সর্বশেষ